তালতলীতে শুরু হয়েছে উপমহাদেশের সর্ববৃহৎ জোছনা উৎসব

0
834

বরগুনা প্রতিনিধি: বণার্ঢ্য আয়োজনের মধ্য দিয়ে আজ বৃহস্পতিবার বরগুনার তালতলী উপজেলার নয়নাভিরাম শুভসন্ধ্যা সমুদ্র সৈকতে অনুষ্ঠিত হচ্ছে উপ-মহাদেশের সর্ববৃহৎ জোছনা উৎসব। পঞ্চমবারের মতো এ উৎসবের আয়োজন করে বরগুনা জেলা প্রশাসন। উৎসবে প্রায় অর্ধ লক্ষাধিক দর্শনার্থী অংশ নেয়।

বরগুনার প্রধান তিনটি নদী পায়রা, বিষখালী ও বলেশ্বর যেখানে সাগরে মিশেছে ঠিক সেখানেই তালতলী উপজেলার স্নিগ্ধ বেলাভূমি শুভসন্ধ্যা সমুদ্র সৈকত। একদিকে সীমাহীন সাগর; আরেকদিকে বাংলাদেশের দ্বিতীয় বৃহত্তম ম্যানগ্রোভ ফরেস্ট টেংরাগিড়ি। সবমিলিয়ে নদ-নদী আর বন-বনানীর এক অপরূপ সমাহার- শুভ সন্ধ্যা সৈকত। এখানেই দিনব্যাপী জলজোছনায় একাকার হবে জোছনাবিলাসী হাজারো মানুষ।

সকাল ১১টায় বরগুনা নৌবন্দরে আনুষ্ঠানিকভাবে এ জোছনা উৎসবের শুভ উদ্বোধন করেন বরগুনার জেলা প্রশাসক মোস্তাইন বিল্লাহ। এ সময় তিনি বলেন, পর্যটন শিল্পের অপার সম্ভাবনাময় বরগুনার নয়নাভিরাম সৌন্দর্যকে দেশ বিদেশের পর্যটকদের কাছে তুলে ধরতে প্রতিবছর এ উৎসবের আয়োজন করা হয়।

বরগুনার আমতলী ও পাথরঘাটা উপজেলা থেকেও একযোগে যাত্রা শুরু করে আরও একাধিক লঞ্চ। বেলা আড়াইটায় শুভসন্ধ্যা পৌছে সমবেত কণ্ঠে জাতীয় সংগীত পরিবেশনার মধ্য দিয়ে সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের উদ্বোধন করবেন বরগুনা-০১ আসনের জাতীয় সংসদ সদস্য অ্যাড. ধীরেন্দ্র দেবনাথ শম্ভু। এরপর উম্মুক্ত সৈকতে দলীয় নৃত্যের মধ্য দিয়ে শুরু হবে মনোজ্ঞ সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান।

এ উৎসবকে ঘিরে আয়োজন করা হয়েছে দেশীয় খেলাধুলা, বাউল গান, পুঁথি পাঠ, পুতুল নাচ, যাদু প্রদর্শণী, যাত্রাপালা, হয়লা গান, রাখাইন নৃত্য সহ আনন্দ বিনোদনের নানা কর্মসূচি। সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান শেষে ফানুস উড়িয়ে এবং দ্বীপালী ভাসিয়ে এ উৎসবের সমাপনী ঘোষণা করবেন বরিশাল বিভাগীয় কমিশনার মুহাম্মদ ইয়ামিন চৌধুরী।

খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, কালেরকণ্ঠের বরগুনা জেলা প্রতিনিধি সাংবাদিক সোহেল হাফিজের নেতৃত্বে ২০১৫ সাল থেকে জেলার সামাজিক, সাংস্কৃতিক ও সাংবাদিক অঙ্গনের একদল জোছনাপ্রেমী মানুষ বরগুনার বিষখালী নদীর মোহনায় এ জোছনা উৎসবের শুরু করেন। এরপর থেকে প্রতিবছরই জোছনা উৎসব অনুষ্ঠিত হয়ে আসছে। বাড়তে থাকে অংশগ্রহনকারীর সংখ্যাও। গত বছর ২০১৮ সালে বরগুনা জেলা প্রাশাসনের উদ্যোগে এ উৎসবটি আরও বড় পরিসরে পালিত হয়। গতবছর এ অনুষ্ঠানে প্রায় ৫০ হাজার দর্শনার্থী অংশ নেয়।

এ উৎসব উপলক্ষে শুভ সন্ধ্যা সৈকতকে বর্ণাঢ্য সাজসজ্জায় সজ্জিত করা হয়েছে। উৎসবস্থলকে ঘিরে নেয়া হয়েছে র‌্যাব, পুলিশ, কোস্টগার্ড, রোভার স্কাউট এবং বিএনসিসিসহ আনসার ও গ্রাম পুলিশের সমন্বয়ে কড়া নিরাপত্তা ব্যবস্থা।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here