সমালোচনা একটি মৌলিক অধিকার

0
214

সম+আলোচনা = সমালোচনা। সমালোচনা হচ্ছে আপনার যেকোনো কাজের ভুল ত্রুটিকে তুলে ধরা যাতে আপনার কাজটি পূর্ণতা পায়। সাধারণত সমালোচনা করতে হলে ওই কাজটিতে আপনাকেও সমান দক্ষ হতে হবে। জানতে হবে কাজটির খুঁটিনাটি।

কিন্তু সমালোচনা শব্দটি বাঙালির জন্য ভিন্ন অর্থ বহন করে। আমাদের মৌলিক অধিকারের পরের অধিকার সমালোচনার অধিকার। শত ব্যস্ততার মাঝেও আমরা নিষ্ঠার সাথে এ কাজটি করে থাকি। বিচিত্র মানুষ তার থেকেও বিচিত্র তার স্বভাব।

আসুন কিছু সমালোচকের শ্রেণি বিন্যাস দেখে নেই,

#নির্ভেজাল_সমালোচক।

বিশ্লেষণ করলে দেখা যায় এই মানুষগুলো ব্যক্তিগত জীবনে যথেষ্ট অসুখি। এদের অধিকাংশ সমালোচনাই ক্ষোভ থেকে সৃষ্টি যেমন যে ব্যক্তি নারী স্বাধীনতার কিংবা নিয়ন্ত্রণের ঘোর বিরোধী তাকে বাসায় মিউ মিউ করে বউয়ের হাতে মাইনের টাকা তুলে দিতে হয়। তাই ক্ষোভটা এসে বাইরে তার মতোই বঞ্চিতদের সাথে প্রকাশ করে। যে মহিলা অন্য মহিলার শাড়ী
চুড়ি কিংবা শালীনতা নিয়ে কথা বলে তার স্বামী পর নারীতে অাসক্ত। যারা সংসারের সকল কাজ নিয়ে শাশুড়ির ভুল ধরে তারা কাজকর্মে অলস। এরা হচ্ছে খুব সাধারন টাইপের মানুষ। এদের ক্ষোভ গুলোকে ঢেলে দিতে পারলেই মুক্তি। আবার বাসায় গিয়ে চুপচাপ জীবনে অভ্যস্ত হয়ে পড়েন। এরা খুব একটা কারও ক্ষতি করেন না।

#নির্লজ্জ_সমালোচক।

এরা হচ্ছেন সত্যিকারের সমালোচক। এ দলের মানুষগুলোর লজ্জা কিংবা বিবেক বলতে কিছু থাকে না। মানুষের ভুল ধরাই এদের প্রধান কাজ। এদের প্রধান সমস্যা হচ্ছে নিজে যে দোষে দুষ্ট সেটা নিয়েও তারা সমালোচনা করে। এদের মুল লক্ষ্যই থাকে কথায় এগিয়ে থাকা কর্মে নয়। এদের বিচিত্রতার কিছু উদাহরণ দেই…

দেখবেন একজন ধর্ষক ভাব গাম্ভীর্যের সাথে নারীদের উপর অত্যাচার ও জুলুম নিয়ে ঝেড়ে দিচ্ছেন। কথা শুনলে মনে হবে এমন চরিত্রবান আর নাই। একজন নেশাখোরকে দেখবেন নেশার কুফল ও যুব সমাজের ধ্বংসের পিছনে নেশার মরন থাবা এবং কেন যে ছেলেগুলো এমন ভুল পথে পা বাড়ায় বলে আফসোস করে৷ কাজের মেয়েটিকে চড় থাপ্পড় দিয়ে আসা নারী আন্দোলনের নেত্রী মঞ্চ কাঁপিয়ে বলেন শিশুদের দিয়ে ঘরের কাজ করানো যাবে না, তাদের গায়ে হাত তোলা যাবে না। নির্যাতিতর পাশে দাড়িয়ে এদের আফসোস দেখলে আপনি আমার চোখে জল চলে আসবে।

গোপনে চাচাতো/পাড়াতো ভাইয়ের বিছানা গরম
করা মেয়েটি অন্য মেয়ের অশালীন জামা কাপড়
নিয়ে সমালোচনা মুখর। তাকে বেশ্যা খেতাব দিয়ে নাক শিটকায়। এরা আসলে খুব ভালো অভিনেতা হয়। একদম যখন যে চরিত্রে অভিনয় সে চরিত্রে
ঢুকে যায়। নিজের চরিত্রের ব্যাপারটা একটু আধটুর নাম দিয়ে সরিয়ে রাখে। মানসিকভাবেও আসলে এরা অসুস্থ। আমার চোখে এরা সব থেকে ঘৃণিত।

#বাসুদ_সমালোচক

এরা সমালোচনাকে শিল্প রুপ দিয়েছে। সরকারী অনুমোদন সময়ের ব্যাপার মাত্র। সমালোচনাকে তারা জীবিকা নির্বাহের পন্থা হিসেবে বেছে নিয়েছে। নিজেকে প্রতিষ্ঠিত করাই তাদের সমালোচনার মুল উদ্দেশ্য। যখন যাকে যেভাবে দরকার সেভাবে কাবু করতে এদের জুরি নাই। খুব সূক্ষ্মতার সাথে অন্যের কানে লক্ষ্যবস্তুর ব্যাপারে বিষদগার করে নিজের জায়গা পাকাপোক্ত করে। রাজনৈতিক, অফিস আদালত পাড়ায় এদের অবস্থান সব থেকে বেশি। নেতার আশেপাশে বলয় তৈরী করে এরা শিকারের অপেক্ষায় থাকে। প্রচন্ড বুদ্ধিমান ও সাবধানী বলে এদের ঘুম কম হয়।। স্বার্থের জন্য এরা অনায়াসে খুন পর্যন্ত করতে পারে। আমার চোখে এরা সব থেকে ভয়ংকর।

#ধর্ম_সমালোচক

চোখে সুরমা লাগিয়ে ধর্মকে বিক্রি করা ছাড়া এদের কোন কাজ নাই। যেনা, ব্যাভিচার অস্তাগফিরুল্লাহ ছাড়া এরা কথা বলে না। আবার রাতে মাদ্রাসার ছাত্রও এদের হাত থেকে রক্ষা পায় না। বেপর্দা নারী, অশালীন নারী রাস্তা দিয়া হেঁটে গেলে এদের সমস্যা কিন্তু তার বাড়ী গিয়া থাকলে সমস্যা নাই। তখন তার ছোঁয়ায় গুলা বের পবিত্রতা চলে আসে। এদের ধর্ম জ্ঞানও যথেষ্ট কম। এদের বেহেশত ও নরকের বর্ণনা শুনলে মনে হয় আরব্য রজনী বলতেছেন। সূর্যের তাপ ৭০ বার ধুয়ে পৃথিবীতে আসছে, ৭০ হুর, ৭০ হাত লম্বা সাপ। ৭০ এর উপর আদৌ এরা গুনতে পারে কি না সন্দেহ আছে। এদের বেকায়দা কোন প্রশ্ন করলেই ব্যাখ্যা না দিয়া অস্তাগফিরুল্লাহ বলে আপনাকে নাস্তিক ব্যাখ্যা দিয়া শুরু করবে আবার কোন আরব্য রজনী। মানে বয়ানে এরা শ্রেষ্ঠ।

নামাজ না পড়ার কুফল বর্ণনা করেই এরা থামবে না আপনাকে নরকের টিকিটও ধরিয়ে দেবে। আবার কেউ কেউ আল্লাহর নবীর সাথে কথা বলা কিংবা স্বপ্নের ব্যাখ্যা শোনাবে। তাদের বিরুদ্ধাচরণ করলেই শুরু হবে আপনার সমালোচনা। ভাবটা এমন বেহেশত দোযখে তারা বায়না করে আসছে আপনার সব পাপ কাটাইয়া দেয়ার দায়িত্ব তার। শিক্ষার প্রতি তাদের ব্যাপক অনীহা। আওরাত সে ছুইলে পাপ নাই অন্যের সাথে কথা বলাও পাপ। ভাবটা তারা বেহেশত ঘুরে দেখে আসছে কিছু পাশও নিয়ে আসছে। আমার মনে হয় যদি নরক থেকেই থাকে এরা বিনা বিচারে নরকে যাবে। এরা সব থেকে নিকৃষ্ট শ্রেণীর সমালোচক।

সমালোচনা কথাটির জন্ম হয়েছিলো কর্মকে পূর্ণতা দিতে। এখন সমালোচনা আপনার কর্মকে এমনকি আপনাকে আবর্জনার মধ্যে ছুঁড়ে ফেলতে ব্যবহৃত হয়। তাই সমালোচনা করা ও শোনা দুটো থেকে বিরত থাকাই যৌক্তিক।

আসাদ জামান।
কবি ও কলামিস্ট।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here