একজন মানুষ মাশরাফি অথবা আপনার এলার্জি

0
507

কারো গরুর মাংসে এলার্জি তো কারো হাঁসের মাংসে। আবার কেউ হয়তো চিংড়ি মাছটা সহ্যই করতে পারেন না। তবে বাজারে আজকাল নতুন এক এলার্জি আবিস্কৃত হয়েছে৷ তার নাম মাশরাফি বিন মুর্তজা। মাশরাফি বিন মর্তুজায় আপনার এলার্জি থাকতেই পারে। তবে হাটে ঘাটে মাঠে গালি খাওয়া বা ছোট হওয়ার মতো কী করেছে এখনো ঠিক বোঝা যাাচ্ছে না।

২০০১ সালে বাংলাদেশের হয়ে প্রতিনিধিত্ব শুরু করার পর থেকে কম তো করলেন না দলের জন্য। ৭ বার গিয়েছেন অভাগা হাঁটু নিয়ে ছুরি কাঁচির নিচে।

একজন মাশরাফি! একজন অধিনায়ক, একজন বড়ভাই, একজন বাবা বা একজন মানুষ! কোন সংজ্ঞাটা বেশি সহজ আপনার কাছে?

একজন বড়ভাই মাশরাফিকে আপনি কতটা চেনেন, একজন বাবা মাশরাফিকে আপনি কতটা বোঝেন, একজন মানুষ মাশরাফিকে আপনি কতটা পড়তে পারবেন বা একজন অধিনায়ক মাশরাফিকে আপনি কিভাবে দেখবেন?

একজন বড়ভাই, যিনি মুহূর্তের ভুলে যান তিনি দুই মিনিট আগে কাউকে বকা দিয়েছিলেন, কিন্তু দুই মিনিট পরেই বুকে টেনে নেন, মাথায় হাত বুলিয়ে দেন। খেলার মাঠে ও মাঠের বাইরে তিনি আগলে রাখেন তার দলকে। কোন খারাপ কিছু যেন তার স্নেহের ভাইগুলোকে ছুঁতে না পারে।
ড্রেসিং রুমেও তিনি মাতিয়ে রাখেন
সবাইকে। কেউ মন খারাপ করে থাকবে কেন এটাই তার প্রশ্ন!

একই সাথে তিনি একজন বাবা, যিনি ছেলের অসুস্থতায় সারারাত জেগে থাকেন, ছেলের কষ্টে নিজে ঘুমান না। বাবা ভক্ত মেয়ের আবদার পূরণে বাইক নিয়ে বের হয়ে যান যখন তখন। ছেলের অসুস্থতার খবরে একা একা চোখের পানি ফেলেন। কখনোবা তিনি একজন অধিনায়ক, যিনি কি করলে দলের ভাল হবে এই ভেবে ম্যানেজমেন্টের বিপক্ষেও কথা বলতে পিছপা হননা। ম্যাচের শেষ মুহুর্তে চিন্তায় পায়চারি করেন। কোন সদস্যকে তিনি কাজে লাগাতে পারবেন সেটা বুঝে অন ফিল্ড মুহূর্তে সিদ্ধান্ত নিয়ে নেন এবং সফল হন।

মাশরাফির এসব দিক পড়ে ফেলার বা জানার অনেক পথ পাবেন কিন্তু একজন মানুষ মাশরাফিকে জানার, পড়ার, বোঝার ক্ষমতা হয়তো বিধাতা আমাকে বা আপনাকে দেননি। একজন মানুষ মাশরাফিকে পড়ার জন্য আপনাকে হয়তো তাকে নিয়ে গবেষনা করতে হবে না আবার হয়তো গবেষণা করেও কিছু পাবেন না। একজন খারাপ মানুষকে আমরা এক কথায় প্রকাশের মতো বলে দিতে পারবো, ‘তিনি খারাপ’। কিন্তু একজন পরিপূর্ণ ভালো মানুষের সংজ্ঞা হয়তো এখনো আমাদের অজানা।
তবু বাংলাদেশ ক্রিকেটের সেই এক জন মাশরাফিকে নিয়ে এই দেশেরই মানুষের কত এলার্জি। যেনো তিনি কারো ক্ষতি করে দিচ্ছেন। যদি দলের দিকেও তাকানক হয় এতটাই কি অপ্রয়োজনীয় হয়ে পড়েছেন তিনি?

মাশরাফিকে অবসরে পাঠানোর পায়তারাও নতুন নয়। অনেকটা বাধ্য করেই টি-টোয়েন্টি থেকে অবসরে পাঠিয়ে দেওয়া হলো তাকে। কিছু দিন পরপরই যেনো থেকে থেকে তার ক্রিকেট থেকে বিদায়ের রব ওঠে। অথচ তিনি অনেকবারই বোঝাতে চেয়েছেন ক্রিকেটে তিনি থাকতে চান। ভালোবাসার জায়গাটা ছাড়ার তার এখনই ইচ্ছে নেই।

সব শেষ বিশ্বকাপের পর সেই অবসরের হাওয়া যেনো আরও প্রবল। যেনো তাকে সড়াতে পারলেই সব ঠান্ডা। অকৃতজ্ঞ বাংলাদেশিদের থেকেও অকৃতজ্ঞ বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ড যেনো আরেক ধাপ এগিয়ে।

অবশ্য কিছু মানুষের এলার্জিটা ঠিক মানুষ মাশরাফিতে নাকি ক্রিকেটার মাশরাফিতে নাকি রাজনৈতিক মাশরাফিতে তাও ঠিকঠাক বোঝা যাচ্ছে না। গেলো নির্বাচনে সরকার দলের হয়ে রাজনীতিতে নাম লেখানোর পর থেকেই একটি পক্ষ যেনো ভেতরের সব রাগ উগ্রে দিচ্ছেন। যেনো ক্রিকেটে এত বছরের সব অর্জন ওই রাজনৈতিক দলের জন্যই।

অথচ ক্রিকেটটাকে তিনি ভালোবাসেন সন কিছুর উর্ধ্বে। কোনো ইনজুরিই তাকে মাঠ থেকে দূরে রাখতে পারে না। তার জলজ্যান্ত উদাহরণ চলতি বঙ্গবন্ধু বিপিএল। মাত্র এক ম্যাচ আগে ফিল্ডিংয়ের সময়ে হাতে ব্যথা নিয়ে মাঠ ছাড়েন ঢাকার হয়ে অধিনায়কের দায়িত্ব পালন করা মাশরাফি। মাঠ থেকেই নিয়ে যাওয়া হয় হাস্পাতালে। তার হাতে বসে ১৪টি সেলাই। অথচ পরে ম্যাচেই (১৩ জানুয়ারি) মাঠে নেমে যান তিনি।

নিজেই বোর্ডের কেন্দ্রীয় চুক্তি থেকে নিজের নাম প্রত্যাহার করে নিয়েছেন যায়ে সুযোগ পায় কোনো তরুণ ক্রিকেটার। অথচ সেখানেও তাকে শুনতে হয় কতশত কথা।

তবু দিন শেষে একটাই কথা বলা যায়, ‘একজন ক্রিকেটার মাশরাফিকে আপনি জানতে চাইতেই পারেন কিন্তু মানুষ মাশরাফিকে খুঁজতে যাবে না, তল খুঁজে পাবেন না’

মেহেরিনা কামাল

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here