প্রিয় নেতা “জিএম দেলোয়ার হোসেন”

0
245

এই অসময়ে আপনার চির প্রস্থান অনাকাংখিত। আপনার এই অসময় প্রস্থানে আমতলীর মানুষ তাঁদের একজন বিশ্বস্ত অভিভাবককে হারালো। যে মানুষকে আপনি বটবৃক্ষের মতো আগলে রেখে তাঁদের সুখে-দুঃখে পাশে দাঁড়াতেন। এমনকি সমব্যথী হতেন। আজ আপনার এই প্রয়াণে সেই বটবৃক্ষের সুশীতল ছায়াকে হারালো মানুষ। আর আওয়ামী লীগ সাংগঠনিকভাবে হারালো একজন দক্ষ, নিবেদিত, পরীক্ষিত এবং ত্যাগী সংগঠক ও নেতাকে- যাঁর শূন্যতা কখনো পূরণ হওয়ার নয়।
সূর্য যেমন বিদায়ের আগে গোঁধূলির মেরুন আভায় তার অস্বিস্তের জানান দেয় তেমনি আপনিও আমাদের হৃদয়ে-মননে-স্মৃতিতে যুগ যুগ অম্লান থাকবেন। আজ এই শোক-বিহবল মুহূর্তে মনে পড়ে, সে সব দিনের কথা। বার বার ভেসে উঠছে সেই সব সোনালী স্মৃতি। আমি যখন বরগুনা সরকারি কলেজ ছাত্র সংসদের সহসভাপতি (ভিপি) নির্বাচিত হওয়ার পর আপনার সঙ্গে যেদিন দেখা হয় সেদিন আপনি আমার মাথায় হাত বুলিয়ে আশির্বাদ করে বলেছিলেন-‘তুমি অনেক দূর যাবে, অনেক বড় হও জীবনে’। তারপর রাজনীতিতে কত পথ, কত সময় অতিবাহিত হলো। জেলা ছাত্রলীগের সভাপতি নির্বাচিত হওয়ার পর প্রথম দেখা হওয়ার সময়ও আপনি একই কথা আমায় বলেছিলেন। ছাত্রলীগের কেন্দ্রীয় কমিটিতে স্থান পাওয়ার পরও আপনার আশির্বাদ, স্নেহমোথিত সেই প্রত্যাশার যেন কোনো পরিবর্তন হয়নি। এমনকি মৃত্যুর আগের দিনগুলোতেও আপনি সেই একই কথা বার বার উচ্চারণ করেছিলেন।
গত ঢাকা সিটি নির্বাচনের প্রাক্কালে আপনার নেতৃত্বে বরগুনা জেলার সকল উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদকগণ, উপজেলা চেয়ারম্যান ও মেয়রদের নিয়ে আমরা একসাথে ঢাকায় গিয়েছিলাম। মনে পড়ে, বরিশাল বিমানবন্দরে পৌছার পর আমরা যখন প্লেনে উঠছিলাম আপনি আমাকে ডেকে বলেছিলেন এই রকম মিলনমেলা আর কখনো হবে কিনা জানি না-এসো আমরা সবাই মিলে একটা ছবি তুলি। আমরা সবাই ছবি তুলেছিলাম। ভাবিনি সেটা আপনার সঙ্গে আমাদের জীবনের শেষ ছবি হবে। মনে পড়ে, প্লেনে ওঠার পর আপনি কত প্রাণবন্ত ছিলেন, রাজনৈতিক জীবনের দুঃসময়-সুসময় নিয়ে কত কথা, কত মধুর স্মৃতি আমাদের বলেছিলেন। আজ কানে ভাসে সেইসব কথা, সেই হাসি-আনন্দ-প্রাণবন্ত সময়ের কথা। ঢাকা বিমান বন্দরে নামার পর আপনি এক রকম জোর করে আমাকে গাড়িতে তুলে নিয়েছিলেন। তখনো ভাবিনি আপনার এই স্নেহময় সংস্পর্শ জীবনে আর পাবো না। আপনি কেবল একজন নির্ভিক রাজনীতিক হিসেবে আমতলীর নয় বরগুনার এই প্রজন্মেরও অগণিত রাজনৈতিক নেতা-কর্মীর অভিভাবক-আস্থার প্রতীক। আজ আমরা সেই অভিভাবক-আস্থার প্রতীককে হারিয়ে সত্যি ভাষাহীন। আমরা কখনো কল্পনাও করিনি আপনি এতোটা অসময়ে আমাদের ছেড়ে যেতে পারেন।
প্রিয় জিএম দেলোয়ার হোসেন, আজীবন আপনি প্রিয় সংগঠন বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ ও বঙ্গবন্ধুর আদর্শ প্রতিষ্ঠার জন্য নিরলসভাবে কাজ করেছেন। দেশমাতৃকার টানে আপনি ঝাঁপিয়ে পড়েছেন মহান মুক্তিযুদ্ধে, স্বৈরাচার বিরোধী প্রতিটি গণতান্ত্রিক সংগ্রামে আপনি সাহস নিয়ে রাজপথে ছুটে গিয়েছেন, জেল-জুলুম-হুলিয়া, নির্যাতন কোনো কিছুতেই আপনাকে আটকাতে পারেনি। আপনার বজ্রকন্ঠ থামাতে পারতো হাজারো মানুষের কোলাহল। আমতলীর নেতা কর্মীদের ঐক্যের প্রতীক ছিলেন আপনি। এক জীবনে এমন সংগ্রাম, সাহসীকতা, ত্যাগ আপনার রাজনৈতিক জীবনকে বর্ণাঢ্যতা দিয়েছিল। এর মধ্যদিয়ে আপনি রাজনৈতিক ক্ষেত্রে এক অপরিসীম উচ্চতায় আরোহন করেছিলেন। তবে পরিতাপের বিষয়, জীবনের শেষ দিনগুলোতে আপনাকে আমরা ততটা ভাল রাখতে পারিনি। এজন্য আপনার হৃদয় ক্ষত ছিল, দহন ছিল, অভিমান ছিল। এই নীরব অভিমানে আপনি ক্ষত-বিক্ষত হলেও কখনো দল, বঙ্গবন্ধুর আদর্শ, প্রিয় নেত্রী দেশরত্ম শেখ হাসিনার স্বার্থহানী হয় এমন কোনো কাজ করেননি। আপনার এই নীরব অভিমান আজ চির অভিমানে পরিণত হলো। যা আমাদের ভীষণভাবে অপরাধী করে দিচ্ছে।
আপনি এমন সময় অন্তিমে যাত্রা করলেন, যখন সারাবিশ্ব এখন করোনা নামের এক ভয়াবহ মহামারীতে আতঙ্কিত, বিচ্ছিন্ন। এমন বাস্তবতায় ইচ্ছা থাকা সত্ত্বেও প্রশাসনিক বাধ্যবাধকতায় আমরা আপনাকে সাড়ম্বরে অন্তিম বিদায় জানাতে পারিনি-এটা আমাদের আরও বড় মর্মপীড়া হয়ে থাকবে। তবু আপনার অপরিসীম ত্যাগ, জীবনাদর্শ সারাজীবন আমাদের স্মৃতিতে উজ্জ্বল থাকবে-অনুপ্রেরণা হয়ে আমাদের মাঝে বেঁচে থাকবে। মহান আল্লাহ আপনার বিদেহী আত্মাকে শান্তি দান করুন, জান্নাত নসিব করুন, এই প্রার্থনা করছি।

গোলাম সরোয়ার টুকু

সাংগঠনিক সম্পাদ,জেলা আওয়ামীলীগ,বরগুনা।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here