“স্যার এক ইঞ্চি কম হলে তো নেন না, অর্ধেক লাশ কেমনে নিব আমি??”

0
189

মা: স্যার এক ইঞ্চি কম হলে তো নেন না,
অর্ধেক লাশ কেমনে নিব আমি?

ছেলের লাশ গ্রহণের সময় মায়ের প্রশ্ন?

গতকাল আনুমানিক ৪ঃ৩০ এ “বোমকা” গ্রেনেড ফায়ারিং রেন্জে “৭ম ফিল্ড রেজিমেন্ট আর্টিলারি” এর গ্রেনেড ফায়ারিং অনুশীলনের সময় সৈনিক রাহাতের ছোড়া একটি গ্রেনেড হাত ফসকে পাশে পড়ে যায়। লেফটেন্যান্ট তৌফিক সাথে সাথে গ্রেনেডটি তুলে দূরে ফেলে দিতে উদ্ধত হন যাতে কারো কোনো ক্ষতি না হয়।কিন্তু গ্রেনেডটি তার হাতে বিস্ফোরিত হলে তিনি আহত হন।পরে তাকে সামরিক হাসপাতালে নেওয়া হলে চিকিৎসাধীন অবস্থায় বিকাল ৫ঃ১০ এ তার মৃত্যু হয়।এছাড়াও মেজর ইমতিয়াজ এবং আরো দুজন সৈনিকের অবস্থা আশংকাজনক।

৭৭ বিএম কোর্সের উত্তির্ন হয়ে ও ৩ বছর বাংলাদেশ মিলিটারি একাডেমিতে নিজেকে ঝালিয়ে নিয়ে লেফটেন্যান্ট পদে অফিসার হয়ে যোগদান করেন লেফটেন্যান্ট তৌফিক। তার একজন ব্যাচমেট এর ভাষ্যমতে ;
অনেক চৌকস, সাবলীল ও আত্মবিশ্বাসী একজন ব্যক্তিত্বের অধিকারী ছিলেন তিনি। ৭৭ বিএমএ কোর্স এর ট্রেনিং সময়, প্রশিক্ষক অফিসার (মেজর) অফিসার ক্যাডেটদের কাছে প্রশ্ন তুলেন ; একটি সম্মুখ যুদ্ধে যদি পারাজয় আসতে থাকে সবার আগের কোন জিনিসটা হেরে যায়? সবাই রীতিমত জিনিসটা নিয়ে ভাবতে থাকে ও একজন অন্যজনের সাথে আলোচনা করতে থাকে। তখন একজন সাবার মাঝে দৃঢ কন্ঠে বলে উঠে ; পরিকল্পনা স্যার। তাহার উত্তর ও চিন্তাভাবনা ট্রেনিং গ্রাউন্ডের সাবইকে অবাক করে।

নিজের জীবনের বাজি রেখে গতকাল যখন সৈনিক রাহাতের পিন খোলা গ্রেনেডটি যখন তার পাশে এসে পারে, তখন চাইলেই নিজেকে বাচিয়ে দূরে গিয়ে লাফিয়ে পরতে পারতেন। কিন্তু তা কি করে হয় ; ৩ বছরের কঠোর সামরিক শিক্ষা ও নিজের স্বকিয়তা তাকে তো এ শিক্ষা দেয় নি। নিজের জীবন বাজি রেখে হাতে তুলে নেনে পিনখোলা গ্রেনেডটি। হয়তো সেকেন্ড দুয়েক পরে গ্রেনেডটা ফাটলে তার পরিকল্পনা ঠিক হয়ে যেত। নিজের জীবনের বাজি রেখে হাতে তুলে নেন গ্রেনেডটি, দূরে নিক্ষেপ করার জন্য। কিন্তু গ্রেনেডটি হাতেই বিষ্ফরিত হওয়ার কারণে ঝাজরা হয়ে যায় ৫ ফুট ৭ ইঞ্চির সুঠাম শরীরটি।

এমনই মানসিকতা ও দৃঢ়চেতী মনভাব নিয়ে কাজ করেন একজন সামরিক বাহিনীর আফিসার। আমার অন্তরের অন্তস্তল থেকে প্রতিটি সামরিক কর্মকতাকে “স্যালুট ” জানাই । এমন কিছু মানুষের বন্ধু হতে পেরে নিজেকে ভাগ্যবান মনে করি।
তাদের উদ্দেশ্য ২ লাইন আজ না হয় লিখলাম ;

“বাহিতে পারি পর্বতমালা কিংবা তারও ঊর্ধ্বে’
“মা গো, তোমার দামাল ছেলে এবার যাচ্ছে যুদ্ধে”

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here